ভারতবর্ষ গল্পের বড়ো প্রশ্ন উত্তর | দ্বাদশ শ্রেণির বাংলা সাজেশন প্রশ্ন উত্তর।

   দ্বাদশ শ্রেণীর বাংলা বিষয়ের ভারত বর্ষ গল্পটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই গল্পটি থেকে যে সকল বড় প্রশ্ন পরীক্ষায় আসার মত তা নিয়ে এখানে আলোচনা করা হলো। ২০২১ সালের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য এই গল্পটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখানে বড় প্রশ্নগুলি সুন্দরভাবে বর্ণনা ও কিভাবে লিখলে পুরো নাম্বার পাওয়া যাবে তা নিয়ে আলোচনা করা হলো।


ভারত বর্ষ গল্পের প্রেক্ষাপট : 


      লেখক সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের লেখা ভারত বর্ষ গল্পটি সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী একটি গল্প। গল্পটির প্রেক্ষাপট রচনা হয়েছে ভারতবর্ষের কোন এক কাল্পনিক গ্রাম কে কেন্দ্র করে।

    যে কাল্পনিক গ্রামে এখনো আধুনিকতার ছোঁয়া বলতে শুধুমাত্র ইলেকট্রিক সেটিও গ্রামের পিচের রাস্তার ধারে অর্থাৎ গ্রামের মধ্যে তা এখনো পৌঁছায়নি। এই সকল প্রেক্ষাপট এর মাধ্যমে আমরা এটুকু বুঝি এখনো ভারত বর্ষ গল্পের এই প্রেক্ষাপট যুক্ত গ্রামটিতে সংকীর্ণ মনোভাব বিস্তার করেছে।

    ভারত বর্ষ গল্পের প্রেক্ষাপট এ আমরা যে গ্রামের কথা জানতে পারি সেখানে পৌষ মাসের দিনে ঝড় জলে মানুষ ক্ষত বিক্ষত এমন সময় সেই গ্রামে এক আগন্তুক বুড়ির আগমন ঘটে। এবং গল্পের শীর্ষ মুহূর্ত হয়ে দাঁড়ায় বইটির হঠাৎ মৃত্যুকে কেন্দ্র করে।



ভারত বর্ষ গল্পের বিষয়বস্তু : 


    ভারত বর্ষ গল্পের প্রেক্ষাপট আলোচনা করার সময় বলেছি যে গল্পটি মূলত সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী প্রকৃতির রচনা। ভারত বর্ষ গল্পটিতে কোন এক পৌষ বাদলার দিনে একটি অসহায় বুড়ি আগমন ও তার হঠাৎ মৃত্যু দৃশ্য কে কেন্দ্র করে ঘটনার ঘনঘটা শুরু হয়েছে। 

    এই গ্রামটিতে হিন্দু ও মুসলমান নামে দুটি জনজাতির বসবাস ছিল, এই কারণে আগন্তুক বইটির মৃতদেহ কে কেন্দ্র করে এই দুই জাতির মধ্যে বিরোধ বাধে। বুড়িটি হিন্দু না মুসলমান এই নিয়ে যখন উত্তেজনা চরম মুহুর্তে পৌঁছায় তখন মৃত বুড়ি টিকে দেখা যায় ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়াতে।
ভারতবর্ষ গল্পের বড়ো প্রশ্ন উত্তর

    মৃত বুড়িটি দুই মারমুখী জনতার মাঝে উঠে দাঁড়িয়ে তাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করেছে যে আমরা প্রকৃত অর্থে মানুষ এবং এটাই আমাদের বৃহৎ এক প্রেক্ষাপট। আর আমরা যে ধর্মকে কেন্দ্র করে লড়াই করতে চাই তা এক সংকীর্ণ মনোভাব ছাড়া আর কিছুই নয়।

    লেখক সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ গল্পটিতে ধর্মকে বা জাতিকে বড় করে দেখাতে চাননি তাই গল্পের শেষে বুড়ি টির মাধ্যমে আমাদের বোঝাতে চেয়েছেন দেশমাতৃকা ও মানব সমাজের কল্যাণের জন্য ধর্ম নামক সংকীর্ণ মনোভাব কে পরিত্যাগ করা সবচেয়ে প্রধান বিষয়।



## উপরে আমি সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের লেখা ভারতবর্ষ গল্পের প্রেক্ষাপট বিষয়বস্তু সম্পর্কে সামান্য ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কেননা কোন গল্পের প্রশ্ন পড়তে গেলে বা সেই বিষয়ে জানতে গেলে অবশ্যই আমাদের সেই গল্পের বিষয়বস্তু সম্পর্কে কিছুটা ধারণা থাকা উচিত। নিচে গল্পটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চারটি বড় প্রশ্ন উত্তর সহ আলোচনা করা আছে।



 ভারত বর্ষ গল্পের যে সাম্প্রদায়িকতার ছবি ফুটে উঠেছে তা আলোচনা করো ।


     মানবদরদি ও সমাজ সচেতন লেখক সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের লেখা ভারত বর্ষ গল্পটিতে এক অনবদ্য মনুষ্যত্বের কাহিনী তুলে ধরা হয়েছে। গল্পটি সাবলীলভাবে শুরু হলেও এর মূল কাহিনী গত দিকটি সাম্প্রদায়িক বিভেদ কে চোখে আঙ্গুল দিয়ে আমাদের দেখানোর চেষ্টা করেছে।

  ভারত বর্ষ গল্প একটি প্রত্যন্ত গ্রাম কে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। গল্পে যে গ্রামের কথা বলা হয়েছে সেটি মূলত দুই জাতির বসবাসের গ্রাম। গল্পটির আসল ঘটনার শুরু হয় দুর্যোগ কেটে যাওয়ার পর যখন দেখা গেল আগন্তুক বুড়ি টির মৃত্যু হয়েছে। 

    গল্পে বুড়িটাকে নিয়ে দুই জাতির মধ্যে যখন টানাটানি বাধল তখন দুই জাতির পৃষ্ঠপোষক অর্থাৎ ব্রাহ্মণ এবং মোল্লা আলাদা আলাদা যুক্তি দিয়ে প্রমান করতে চাইল যে বুড়ি টি হিন্দু না মুসলমান। হিন্দুরা বলতে চাইলো বুড়িটি রামরাম বলেছে আর মুসলমানেরা বলতে চাইল তারা বুড়িটি কে আল্লাহ আল্লাহ করতে শুনেছে। 

    মোল্লা সাহেবের উস্কানিতে হিন্দুরা মুসলমানদের উপর আর মুসলমানরা হিন্দুদের বিরুদ্ধে মারমুখী হয়ে ওঠে, শুরু হয় সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা। লেখক জনসমাজের মধ্যে সাম্প্রদায়িক বিষয়টিকে বড় করে দেখাতে চাননি, সেই কারণে সময়মতো বুড়ি টিকে গল্পে ফিরিয়ে নিয়ে এসে সমস্ত জাতির ঊর্ধ্বে তাকে তুলে ধরেছেন।

   ভারত বর্ষ গল্পের লেখক সাম্প্রদায়িকতার কঠিন স্বরূপ টি খুব নিপুণ ভাবে বর্ণনা করেছেন। এমনকি বুড়িটি উভয়ই জাতিকে নরকখেকো, শকুন চোখা এবং তারা নিজেরা তাদের মাথা খাবে বলে গালাগালি পর্যন্ত দিয়েছে।



" কতক্ষণ সে এই মারমুখী জনতাকে ঠেকিয়ে রাখতে পারতো কে জানে"  -  সে বলতে কার কথা বলা হয়েছে ? জনতা মারমুখী হয়ে উঠেছিল কেন ?



    প্রখ্যাত সাহিত্যিক সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের উল্লেখযোগ্য ভারত বর্ষ গল্পের উল্লিখিত উক্তিটিতে সে বলতে নীল উর্দি পরা গ্রামের চৌকিদার এর কথা বলা হয়েছে।

    ভারত বর্ষ গল্পের মূল ঘটনাটি দানা বাঁধে গ্রামের মধ্যে ঝড় বৃষ্টির দিনে আগন্তুক একটি অপরিচিত বুড়িকে নিয়ে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে বুড়িটি কোনরকম ভাবে নিজের প্রাণকে রক্ষা করলেও ঝড়-বৃষ্টি কেটে যাওয়ার পর তাকে এক গাছ তলা থেকে মৃত বলে উদ্ধার করে গ্রামবাসীরা। বুড়িটি মারা যাওয়ায় তাকে গ্রামের লোক জনেরা ফেলে দিয়ে আসে নদীর চড়াতে।

     এরপরই শুরু হয় ভারত বর্ষ গল্পের উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্ত। সেই দিনই হঠাৎ করে বিকালে দেখা গেল ওই গ্রামের মুসলমানেরা বুড়ি টিকে আড় কোলা করে গ্রামের দিকে নিয়ে আসছে। এরপরই গ্রামের মধ্যে বসবাসকারী উল্লিখিত হিন্দু এবং মুসলমান জাতির মধ্যে প্রধান দ্বন্দ্ব শুরু হয়। হিন্দুরা যথেষ্ট হবে প্রমাণ করতে চাইল যে বুড়িটি হিন্দু অন্যদিকে মুসলমানেরাও প্রমাণ করতে চাইল যে বুড়িটি মুসলমান অর্থাৎ প্রত্যেক জাতি তাদের নিজের মতো করে বুড়ি টির সৎকার করবে বলে দাবি জানাতে থাকে।

    একসময় দেখা গেল তাদের এই দাবি ধীরে ধীরে চরমতম পর্যায় পৌঁছালে, দুই জাতির পৃষ্ঠপোষকদের তৎপরতায় তারা অস্ত্র হাতে করে একে অপরের উপর ঝাঁপিয়ে পড়তে চেষ্টা করে। এমনকি তারা যে যার ইস্ট দ্বীপের নাম স্মরণ করে আক্রমন করতে উদ্যত হয়। অর্থাৎ গ্রামের মধ্যে এই আগন্তুক বুড়ির মৃতদেহ কে কেন্দ্র করে জনতারা মারমুখী হয়ে উঠেছিল।



" শেষ রোদের আলোয় সে দূরের দিকে ক্রমশ আবছা হয়ে গেল"  - কার কথা বলা হয়েছে ? সে ধীরে ধীরে আবছা হয়ে গিয়েছিল কেন ?



     সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের ভারতবর্ষ গল্পের আগন্তুক, সমস্ত জাত-পাতের ঊর্ধ্বে, মনুষ্যত্বের ধারক বুড়ি টির কথা এখানে বলা হয়েছে। যার মৃতদেহ কে কেন্দ্র করে গ্রামের দুই মনুষ্যত্বহীন জাতি মারমুখী হয়ে উঠেছিল।

     গ্রামের দুই জাতি যখন বিকালে বুড়িটি মৃতদেহ কে কেন্দ্র করে দুই পাশে মারমুখী হয়ে দাঁড়িয়ে পড়ে তখন তারা এক জাতি অন্য জাতিকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করতে শুরু করে। অনেক প্রমান করার চেষ্টাও তারা করে যে বুড়িটি তাদের নিজের নিজের জাতির মানুষ বলে।

    কিন্তু দুই জাতির পৃষ্ঠপোষক মোল্লা সাহেব ও নীল উর্দি পরা চৌকিদার এদের অনুপ্রেরণায় যখন এক জাতি অন্য জাতিকে অস্ত্র হাতে মারবে বলে উদ্যত হয়েছে ঠিক এমন সময় যে বুড়িটির মৃতদেহ কে কেন্দ্র করে উত্তেজনা শুরু হয়েছিল, সেই বুড়ির মৃতদেহটি ধীরে ধীরে নড়ে উঠে বসতে দেখে গ্রামবাসীরা অবাক হয়ে যায়।

    হঠাৎ করে মৃত বুড়ি টিকে উঠে দাঁড়াতে দেখে গ্রামবাসীরা সবাই অস্ত্র ছেড়ে অবাক হয়ে তার দিকে তাকিয়ে থাকে। বুড়িটি ধীরে ধীরে হাঁটতে থাকে দিনের ফুরিয়ে যাওয়া আলোর দিকে, দুই মারমুখী জনতার দল সরে গিয়ে তাকে পথ করে দেয়, আর ধীরে ধীরে বুড়িটি বিকালের নিস্তেজ আলোতে মিলিয়ে যায়।

    আসলে লেখক সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ এখানে বুড়িটিকে ভারতমাতার প্রকৃত স্বরূপ হিসাবে বর্ণনা করেছেন, যার কাছে জাত ধর্ম এই সংকীর্ণ পদগুলি কোন মূল্যই রাখেনা। জাত বা ধর্ম হলো এক সংকীর্ণ মনোভাব যাকে কেন্দ্র করে মানুষ তার মনুষত্বকে হারাতে বসেছে। ওই গ্রামের মানুষের মাঝে এই বোধকে জাগ্রত করে বুড়িটি ধীরে ধীরে আবছা আলোয় মিশে গিয়েছিল।



সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী গল্প হিসাবে ভারত বর্ষ গল্পটি কতখানি সার্থক আলোচনা করো।



    লেখক সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ ভারতবর্ষ গল্প দুটি ভিন্ন সম্প্রদায়ে কতখানি সংকীর্ণ মানসিকতার মধ্যে পৌঁছালে একে অপরের উপর তীব্র আক্রমণ করতে দ্বিধাবোধ করে না তা আলোচনা করেছেন। গল্পের মূল বিষয় এক প্রত্যন্ত গ্রামের বসবাসকারী দুটি প্রধান জনজাতি হিন্দু ও মুসলমান। 

    গল্পটির প্রথমে আমরা এই দুই জনজাতির সম্পর্কে কোন ধারণা পাই নি কিন্তু যখন মৃত দেহ ফিরিয়ে আনা হয় এবং তাকে নিয়ে চরম উত্তেজনা শুরু হয় তখন আমরা এই দুই জনজাতি সম্পর্কে জানতে পারি। মৃত বুড়িটি হিন্দু না মুসলমান এবং তাকে সেই জাত কে বিচার করে তার সৎকার করতে হবে এই নিয়ে মূল সংঘাত দানা বাঁধে।

    যেখানে মানব সমাজের উচিত ছিল আগন্তুক বুড়ি টিকে যথাযথভাবে, সৎকার করা সেখানে শুধুমাত্র জাতপাত কে কেন্দ্র করে মনুষ্যত্বহীন সম্প্রদায় একে অপরের দিকে অস্ত্র ধারণ করেছে। আসলে আমরা সংকীর্ণ ধর্ম কে কেন্দ্র করে মানব সমাজের কল্যাণের কথা চিন্তা করিনা।

    একটি কথা আছে বাঘে বাঘের মাংস খাইনা, অর্থাৎ বাঘ তার জাতি সম্পর্কে সচেতন কিন্তু পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ এই মানব জাতি সামান্য একটি সংকীর্ণ মনোভাব কে কেন্দ্র করেই খুব সহজে মানুষকে হত্যা করতে পিছুপা হয়না। এই বিষয়টি লেখক সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের কাছে দৃষ্টিহীন বলে মনে হয়েছে।

    এই কারণে গ্রামে বসবাসকারী দুটি জাতির মধ্যে যখন উত্তেজনা তুঙ্গে তখন বুড়িকে তিনি গল্পে ফিরিয়ে এনেছেন এবং দুই জাতির চোখে আঙ্গুল দিয়ে বুড়ি টির মাধ্যমে দেখানোর চেষ্টা করেছেন আসলে জাতিগত বিভেদ কে কখনো বড় করে দেখা উচিত নয় তা মানুষ ও মানব সমাজের উভয়ের পক্ষে ক্ষতিকর। এই কারণে আমরা বলতে পারি ভারত বর্ষ গল্প টি অবশ্যই সাম্প্রদায়িকতার ঊর্ধ্বে





অন্য সকল বাংলা বিষয়ের প্রশ্ন ও উত্তর : 




## দ্বাদশ শ্রেণীর বাংলা বিষয়ের জন্য নির্বাচিত বড় প্রশ্নগুলি সাধারণত পাঁচ মার্কের হয়ে থাকে। হয়তো আমার এই নোটগুলি দেখে মনে হতে পারে যে এতোটুকু লিখলে কি ফুল মার্কস পাওয়া যেতে পারে। এ বিষয়ে আমি বলব এই নোটটি যদি তুমি মুখস্ত করে খাতায় লিখ তবে দেখবে প্রায় এক পৃষ্ঠা মত হয়ে যাবে যা ফুল মার্কস পেতে অবশ্যই তোমাকে সাহায্য করবে।

    যতটুকু লিখলে ভালো নাম্বার পাওয়া যাবে এবং যে বিষয়গুলো তুলে ধরলে একটি প্রশ্নের ভিতরে ভালো নাম্বার পাওয়া যাবে এখানে আমি শুধুমাত্র সেই বিষয় গুলি এবং ততটুকুই লিখব অতিরিক্ত লিখলে তা তোমাদের জন্য বেশি উপযোগী হবে বলে আমার ধারণা নেই। ভাত গল্পের বড় প্রশ্ন উত্তর

    সুতরাং সেই টুকু পড়া উচিত যেটুকু আমাদের প্রয়োজনে লাগবে।সুতরাং ভারতবর্ষ গল্পের যেসকল প্রশ্নগুলি আমাদের পরীক্ষাতে আসে সেগুলি নিয়ে আলোচনা করলাম অবশ্যই বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করো ও নোটগুলি খাতায় লিখে নাও।