বাংলা গানের ধারা সাজেশন 2021 বড়ো প্রশ্নের উত্তর সহ।

    দ্বাদশ শ্রেণির বাংলা গানের ধারা থেকে যে সমস্ত প্রশ্ন গুলি প্রতি বছর খুবই গুরুত্বপূর্ণ থাকে তার কয়েকটি নিয়ে এখানে আলোচনা করা হলো যেমন বাংলা গানের ধারায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবদান, বাংলা আধুনিক গান কিশোর কুমারের অবদান, বাংলা গানের ধারায় অতুলপ্রসাদ সেনের অবদান এবং কাজী নজরুল ইসলামের অবদান। এছাড়াও যে সকল প্রশ্ন খুবই গুরুত্বপূর্ণ তাদের কয়েকটি  এখানে সময়মতো আপডেট করে দেয়া হবে। যেমন বাংলা গানের ধারায় বিভিন্ন লোকসংগীত গুলি।


 বাংলা গানের ধারায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবদান।


       বাংলা গানের ধারায় যে সমস্ত উল্লেখযোগ্য শিল্পী দের কথা মনে আসে তাদের মধ্যে অন্যতম রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। বাংলা সাহিত্যে এমন কোন বিষয় নেই যে সেখানে তার যাতায়াত নেই। নাগরিকতার বৃত্তে এসে লৌকিক সংগীতের বিভিন্ন ধারার নতুন রূপ পরিগ্রহণ ইউরোপীয় ভাবধারার প্রচণ্ড অভিঘাত এবং স্বাদেশিকতার অভ্যুত্থান এই সকল প্রেক্ষাপট গানের ধারায় রবীন্দ্রনাথ এর আবির্ভাব হয়েছিল।
        তিনি আনুমানিক মোট ২২৩২ টি গান রচনা করেছিলেন, এই গানগুলি গীতবিতান নামক গ্রন্থে প্রকাশিত হয়েছে, এবং স্বরবিতান গ্রন্থে ১৯৩১ টি স্বরলিপি মুদ্রিত হয়েছে। 

Rabindranath Tagore's


      সুরের দিক থেকে রবীন্দ্র সংগীত কে অন্তত পাঁচটি শ্রেণীতে ভাগ করা যায় -

ধ্রুপদ ও ধামার ::   শৈশবে বিষ্ণুপুর ঘরানার বিখ্যাত শিল্পী যদু ভট্ট এর কাছে তালিম প্রাপ্ত হিন্দি গানের সুর নিয়ে মোট 77 টি ধ্রুপদ রচনা করেন। এরকম একটি বিখ্যাত ধ্রুপদ হল - প্রথম আদি তব শক্তি

খেয়াল ও ঠুং রি ::   উচ্চাঙ্গসগীত ব্যবহার করে প্রায় 300 গান রবীন্দ্রনাথ সৃষ্টি করেছিলেন। এক্ষেত্রেও হিন্দি খেয়াল ও ঠুং রি অনুসরণে কিছু গান সৃষ্টি হয়েছিল।


টপ্পা ::   হিন্দি টপ্পা র অনুসরণে 14 টি এবং নিজস্ব শৈলীতে 25 টি টপ্পা গান রবীন্দ্রনাথ রচনা করেছিলেন যেমন - হৃদয়বাসনা পূর্ণ হল

লোকসংগীত ::    রবীন্দ্রনাথের বহু গানে বাংলার লোকসঙ্গীতের ছায়া পড়েছে।বাউল সুরে বাঁধা অজস্র গানের মধ্যে মেঘের কোলে কোলে বা পাগলা হাওয়ার বাদল দিনে প্রভৃতি গানের নাম করা যায়।

ভাঙ্গা গান ::    শুধু হিন্দি গান নয় ভারতবর্ষের অনান্য প্রাদেশিক সুর এবং পাশ্চাত্য সঙ্গীত থেকেও অনুপ্রাণিত হয়ে রবীন্দ্রনাথ বহু গান রচনা করেছেন। এই সকল গানকেই ভাঙ্গা গান নাম দেওয়া হয়েছে। যেমন লালন গীতি আমি কোথায় পাব তারে ও বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত আমার সোনার বাংলা এসব গান কেউ ভাঙ্গা গানের পর্যায়ে রাখা যায়।

       বিষয় ও বৈশিষ্ট্য অনুসারে রবীন্দ্রনাথের গানের আরো কিছু শ্রেণীবিভাগ করা যায় যেমন -

আধ্যাত্মিক সংগীত ::   রবীন্দ্রনাথ প্রায় ৬৫০ টি গান লিখেছিলেন যেখানে মরমী আধ্যাত্মিকতার অপূর্ব প্রকাশ ঘটেছে। মূলত তার পূজা পর্যায়ের গানগুলি আধ্যাত্মিক সংগীত হিসাবে বেশি কদর পেয়েছে।

প্রেম সংগীত ::   এই ধরনের গানের সংখ্যাও রবীন্দ্রনাথের প্রচুর প্রায় ৪৫০ টি। প্রেম পর্যায়ের একটি বিখ্যাত গান হল - আমি তোমারই সঙ্গে বেঁধেছি আমার প্রাণ

দেশাত্মবোধক গান ::    মূলত বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের সময় রচিত এই ধরনের গানের সংখ্যা মোট 62 টি। এই জাতীয় গানে মূলত বাউল কীর্তন রামপ্রসাদী প্রভৃতি খাঁটি বাঙালি সুর রবীন্দ্রনাথ ব্যবহার করেছেন।

ভানুসিংহের পদাবলী ::    রাধা কৃষ্ণের প্রেমলীলা নিয়ে রবীন্দ্রনাথ বৈষ্ণব পদাবলী রচনা করেছিলেন যার নাম দিয়েছিলেন ভানুসিংহ এর পদাবলী। এখানে মোট তিনি ব্রজবুলি ভাষায় বাইশটি পদ রচনা করেছিলেন।

হাস্যরসাত্মক গান ::   বিভিন্ন নৃত্য নাট্য গীতিনাট্য ও নাটকের প্রয়োজনে সামান্য কয়েকটি হাস্যরসাত্মক গান রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন। যে গানগুলি চিরকুমার-সভা বা বিনি পয়সার ভোজ প্রভৃতি নাটকে ব্যবহার করা হয়েছিল।




বাংলা গানের ধারায় অতুলপ্রসাদ সেনের কৃতিত্ব আলোচনা করো।


        বাংলা গানের ধারার অন্যতম গীতিকার রচয়িতা এবং সুরকার হিসেবে অতুলপ্রসাদ সেনের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। মূলত রবীন্দ্রনাথের প্রভাবে প্রভাবিত হয়ে অতুলপ্রসাদ প্রাচীন ধারার সঙ্গে প্রেম ভক্তির মিলন ঘটিয়েছেন। তার উল্লেখযোগ্য গান গুলির বেশিরভাগই ভক্তিমূলক যেখানে আত্মনিবেদন হলো মূল বিষয়।

      তার এই ধারা বাদ দিয়েও প্রেম-বিরহের ধারায় তিনি খ্যাতি লাভ করেছেন। ভারতীয় সংগীতের সাথে প্রেম কে তিনি বিরহের করে গড়ে তুলেছেন। অতুপ্রসাদ সেনের সমস্ত গান গুলির সংকলন গ্রন্থ হলো " গীতিগুঞ্জ" । এই গ্রন্থটির মধ্যে গান গুলিকে তিনটি ভাগে আমরা দেখতে পায় - দেশাত্মবোধক, ভক্তিমূলক ও প্রেম মূলক। তিনি দেশাত্মবোধক গানেও বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন। কয়েকটি উল্লেখ্য গান হল - হও ধরমেতে ধীর, হও করমেতে বীর, এই গানটি দেসত্ববোধকে পরিপূর্ণ করে তোলে। তার রচিত গানের মোট সংখ্যা ২০০ এর বেশি। 

     বাংলা গানের ধারাতে তিনি একটু স্বতন্ত্র হতে সূর বেঁধেছিলেন। তার সকল গানের মধ্যে প্রেমের আকুতি ঈশ্বরের প্রতি ভালোবাসা, দেশের প্রতি গর্ভ বোধ, গান গুলিকে সুন্দর করে তুলেছে। তার উল্লখযোগ্য কয়েকটি গান হল - কে আবার বজায় বাসি, বা এক মর গানের তরী, বা কে তুমি নদী কুলে ইত্যাদি।

    অতুলপ্রসাদ সেনের গানকে কয়টি শ্রেণীতে ভাগ করা যায় - 

রাগাশ্রয়ী গান::   বাণী কাব্য ছন্দ অসুরের চলন গানের বিভিন্ন অঙ্গের সঙ্গে সামঞ্জস্য ও সঙ্গতি রেখে রাগ মিশ্রণের কারণে অতুলপ্রসাদ সৃষ্ট রাগাশ্রয়ী গানগুলি উঠেছে অন্যান্য সাধারণ।

গজল / টপ্পা / ঠুং রী ::   বাংলা ভাষায় গজল রচনা তিনি স্রষ্টা। কে গো তুমি বিরহীনি বা জল বলে চল, এই সমস্ত গানগুলি তার জনপ্রিয়তা লাভের অন্যতম অবদান।

স্বদেশী সংগীত ::   অতুলপ্রসাদের লেখা বহু স্বদেশী সংগীত চূড়ান্ত জনপ্রিয়তা লাভ করেছিল যে গানগুলি এখনো সমানভাবে জনপ্রিয়।

ঋতু সংগীত ::   অতুলপ্রসাদের বহুগামী প্রকৃতি ও বিভিন্ন ঋতুর সার্থক চিত্রায়ন হয়েছে। মল্লার রাগে গাওয়া বধুয়া নিদ নাহি আঁখিপাতে, বর্ষার মেজাজে  এই সকল গান বেশ জনপ্রিয়তাা পেয়েছিল ।

      অতুলপ্রসাদ বাউল কীর্তন রামপ্রসাদী ও ভাটিয়ালি সুরে অনেক চমৎকার গান রচনা করেছিলেন। তার লেখা গানগুলি যে সমস্ত গায়ক-গায়িকারা বেশ নাম করেছিলেন তাঁরা হলেন রেনুকা দাশগুপ্ত, কৃষ্ণা চট্টোপাধ্যায় প্রমুখ ব্যক্তিবর্গ।




বাংলা গানের ধারায় কাজী নজরুল ইসলামের অবদান সম্পর্কে আলোচনা করো।


       বাংলা গানের জগতে রবীন্দ্রনাথের হাতে যে সমস্ত ধারার সূচনা হয়েছিল তার দিক পরিবর্তন হয় কাজী নজরুল ইসলামের হাত ধরে। তিনি বাংলা গানের দিক পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় ভূমিকা নিয়েছিলেন। ১৯২৮ সালে বেতারের শিল্পী হিসাবে তাঁর আত্মপ্রকাশ ঘটে। মাত্র 14 বছর সময়ে তিনি ৩২৪৯ টি নজরুল গান রচনা করেন। তার সমস্ত গানগুলিকে বেশ কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায় -

প্রেম ও প্রকৃতি ::   নজরুলের অধিকাংশ গানের বিষয় ভাব নাই প্রেম ও প্রকৃতি প্রধান। মোর প্রিয়া হবে এসো রানী বা আমি চিরতরে দূরে চলে যাব এবিষয়ে বেশ উল্লেখযোগ্য দুটি গান।

ঋতু সংগীত ::   নজরুলের বহু গান এই ঋতুর প্রসঙ্গ এসেছে বারবার। তার লেখা ঋতু সঙ্গীত গুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য বর্ষা ঋতু এল বিজয়ীর সাজে বা আজি দোল পূর্ণিমাতে দুলবি তোরা আয়,  বেশ উল্লেখযোগ্য।

রাগাশ্রয়ী গান :: বিভিন্ন রাগ রাগিনী ব্যবহার করে নজরুল অসংখ্য গান রচনা করেছেন এমনকি তিনি নিজেও বেশ কয়েকটি রাগ আবিষ্কার করেছিলেন। এই ধরার কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গান হল - চপল আঁখির ভাষায় হে মীনাক্ষী, বা হাসে আকাশে শুকতারা হাসে ইত্যাদি বেশ উল্লেখযোগ্য। 

গজল ::   মধ্যপ্রাচ্যের গজল অনুসারে আরবি ও ফারসি শব্দ ব্যবহার করে নজরুল অনেক রসের গজল রচনা করেছিলেন। যেমন গুলবাগিচার বুলবুলি আমি গানটি খুব জনপ্রিয়তা লাভ করেছিল। 

ইসলামী গান :: তিনি বেশ কয়েকটি ইসলামী গান রচনা করেছিলেন। তার সমস্ত ইসলামী গানের মধ্যে উল্লেখযোগ্য - রমজানের ওই রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ এই গানটি বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করেছিল। এ বিষয়ে বলা হয় যে লোকসংগীত শিল্পী আব্বাস উদ্দিন আহমেদের অনুরোধে নজরুল এই গানটি রচনা করেছিলেন।

ভক্তিগীতি ::   তিনি নবী বিষয়ক বিভিন্ন গান ছাড়াও শ্রীচৈতন্য রামকৃষ্ণ দেব কে নিয়ে এমনকি অনেক শ্যামাসঙ্গীত তিনি রচনা করেছিলেন। তারেই নিজস্ব ভঙ্গিমায় গুলি অন্যান্য শিল্পীদের থেকে অনেক আলাদা করে তুলেছিল। এ বিষয়ে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি গান বর্ণচোরা ঠাকুর এলো বা বাঁশি বাজাবে কবে উল্লেখযোগ্য।

হাস্যরসাত্মক গান ::   নজরুল ইসলাম বেশ কয়েক খানি হাস্যরসাত্মক গান রচনা করেছিলেন যার উদ্দেশ্য ছিল হাসিঠাট্টার মাধ্যমে আঘাত করা। এ বিষয়ে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি গান - তোমারি জেলে পালিছ ঠেলে, বা আমার হরি নামে রুচি কারণ পরিনমে লুচি, ইত্যাদি বেশ উল্লেখযোগ্য।



আধুনিক বাংলা গানের ধারায় কিশোর কুমারের অবদান আলোচনা করো।


       বাংলা আধুনিক গান যার হাতে প্রথম সবচেয়ে বেশি সমৃদ্ধশালী হয়ে উঠেছিল তিনি কিশোর কুমার। কিশোর কুমারের প্রকৃত নাম আভাস কুমার গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি ছিলেন ভারতীয় চলচ্চিত্র সংগীতের প্রথম জনপ্রিয় পুরুষ শিল্পী। তার মত জনপ্রিয়তা সমস্ত ভারতবর্ষে আর কেউ অর্জন করতে পারেনি। 

       বাংলা ও হিন্দি ছাড়াও মারাঠি অহমিয়া গুজরাটি, কন্নর, ভোজপুরি, মালায়ালম, এবং উর্ধু ভাষাতেও তিনি প্রচুর গান গেয়েছেন। প্রথম জিবনে তিনি একজন কোরাস শিল্পী হিসেবে বোম্বে টকিজ এ পা রাখেন। ১৯৪৬ সালে শিকারি সিনেমার মধ্য দিয়ে অভিনেতা হিসাবে এবং ১৯৪৮ সালে জিদ্দি ছায়াছবিতে প্রথম নেপথ্য শিল্পী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন কিশোর কুমার। 

     তিনি একই সঙ্গে ছিলেন গায়ক ,গীতিকার, অভিনেতা, চিত্র পরিচালক, প্রযোজক, এবং রেকর্ড প্রযোজক। তিনি সারা জিবনে মোট আট বার ফ্লিম ফেয়ার আওয়াড জিতেছিলেন, যা এখনও পর্যন্ত রেকর্ড। মধ্যপ্রদেশ সরকার হিন্দি ছবিতে অবদানের জন্য জাতীয় কিশোর কুমার পুরষ্কার চালু করেন। 

    কিশোর কুমারের গাঁওয়া অজস্র গানের মধ্যে " শিং নে তবু নাম তার সিংহ", আকাশ কেনো ডাকে, এক পলকের একটু দেখা, আমার পূজার ফুল, বিপিন বাবুর কারণ সুধা, আজ এই দিনটাকে, এই সকল গান গুলো বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। তার গাওয়া গান গুলি ছিল বাঙালি জীবনের পালাপর্বন, অবকাশ যাপন, আর প্রেমের অবাধ স্রোতের ধারার মতন।


 ** এই সকল প্রশ্ন গুলো বেশ গুরুত্বপূর্ণ যা বার বার পরীক্ষায় আসে, এই প্রশ্ন গুলি ছাড়াও আরো বেশ কয়েকটি প্রশ্ন এখান থেকে আসে যা সময় মত আপডেট করে দেওয়া হবে। এই সমস্ত পার্ট থেকে সমস্ত শর্ট প্রশ্ন গুলি এই ওয়েবসাইটে দিয়ে দেওয়া হবে **