পড়তে জানে এমন এক মজুরের প্রশ্ন কবিতার প্রশ্ন ও উত্তর।

     দ্বাদশ শ্রেণীর আন্তর্জাতিক কবিতা পড়তে জানে এমন এক মজুরের প্রশ্ন" কবিতা থেকে যে সকল প্রশ্ন গুলি উচ্চমাধ্যমিক বাংলা বিষয়ের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বা বাংলা সাজেশন হিসেবে আমাদের পড়তে হবে সেই সকল প্রশ্ন গুলি নিয়ে এখানে 5 নাম্বারের মত আলোচনা করা হলো। 

পড়তে জানে এমন এক মজুরের প্রশ্ন কবিতার প্রশ্ন ও উত্তর।


পড়তে জানে এমন এক মজুরের প্রশ্ন কবিতার বিষয়বস্তু :


      পৃথিবীর ইতিহাসে সকল সময়ই প্রভাবশালী রাজা ও তাদের বিভিন্ন কাহিনী আমরা জেনে থাকি এমনকি ইতিহাসের শুধুমাত্র তাদের নাম লেখা হয়ে থাকে, কিন্তু এই রাজাদের বিভিন্ন সৌর্য আর বীর্যের পিছনে যে সকল শ্রমিকশ্রেণীর হাত থাকে সেগুলো ইতিহাসের পাতায় লেখা হয় না। 

    যেসকল শ্রমিক শ্রেণী বিভিন্ন যুগে সম্রাট বা রাজাদের শক্তির উৎস হয়েছিল তাদের ইতিহাস আমরা কোন গ্রন্থে পাইনা। কিন্তু সকল রাজার বিভিন্ন কাজের পিছনে তাদেরই এক প্রবল শক্তি কাজ করে থাকে। আলোচ্য কবিতাটিতে আমরা এমন একটি মজুরের কাহিনী বা শ্রমিকের কথা জানতে পারি যে কিনা পড়তে জানে।

    পড়তে জানে এমন এক মজুর এক দিন হঠাৎ করে প্রশ্ন করে বসেছে যে রাজাদের কাহিনী যদি এত বড় করে লেখা হবে তবে তাদের সমস্ত ভিত্তিপ্রস্তর বা তাদের তৈরি করা বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্তম্ভগুলো কি তারা নিজেরাই তৈরি করেছিল ? না তার পিছনে আমাদের মত কোন সামান্য মজুরের ইতিহাস লেগে আছে।


    বস্তুত এমনই এক শিক্ষিত মজুরের কাল্পনিক কাহিনী নিয়ে ব্রেটল্ট ব্রেখট তার এই পড়তে জানে এমন এক মজুরের প্রশ্ন কবিতাটি রচনা করেছেন। এই কবিতাটির সঙ্গে আমরা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ওরা কাজ করে নামের কবিতাটির অনেকটা মিল পেয়ে থাকি।


পড়তে জানে এমন এক মজুরের প্রশ্ন কবিতার বড়ো প্রশ্ন ও উত্তর


    এবার আমরা পড়তে জানে এমন এক মজুরের প্রশ্ন থেকে যেসকল বড় প্রশ্ন গুলি পরীক্ষার জন্য পড়তে হবে এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাজেশন হিসেবে আমাদের দেখতে হবে সেগুলো সম্পর্কে নিচে বিস্তারিত ভাবে লেখা হলো তোমরা এখান থেকে সেগুলি নোটস করে লিখে নিতে পারো।


" সেই সন্ধ্যায় কোথায় গেল রাজমিস্ত্রিরা ? " - কোন সন্ধ্যার কথা বলা হয়েছে ? সেই সন্ধ্যায় রাজমিস্ত্রিরা কি তৈরি করেছিল ? এই উক্তিটির মাধ্যমে বক্তা কি বলতে চেয়েছেন ? 


    প্রশ্নে উল্লেখিত সেই সন্ধ্যা বলতে যে সন্ধ্যায় চীনের প্রাচীর তৈরি শেষ হয়েছিল সেই সন্ধ্যার কথা বলা হয়েছে। 

     সেই সন্ধ্যায় চীনের ঐতিহ্যশালী বিশাল প্রাচীর তৈরি করা শেষ হয়েছিল। অর্থাৎ সেই সন্ধ্যায় রাজমিস্ত্রিরা চীনের বিশাল রক্ষাকারী প্রাচীর তৈরি করেছিল। 

     পড়তে জানে এমন এক মজুরের প্রশ্ন কবিতায় ঐতিহ্যশালী ইতিহাসের পিছনে যাদের গভীর অবদান সেই মজুরদের কাহিনী কোনদিনও ইতিহাসের পাতায় লেখা হয়ে থাকে না, এই আক্ষেপ প্রকাশিত হয়েছে। চীনের ঐতিহ্যশালী প্রাচীর যা সমস্ত বিশ্বে চীনকে একটি মর্যাদা দিয়েছে, সেই মর্যাদা দান এর পিছনেও অবদান আছে এই মজুরদের। 

    কিন্তু যে মজুরেরা তাদের জীবনকে শেষ করে এই ঐতিহ্য গড়ে তুলেছিল তাদের কথা কিন্তু ইতিহাস লেখা নেই। অথচ যে রাজা সিংহাসনে বসে এই সকল মজুরদের উপর অত্যাচার খাটিয়ে নিয়ে সেই প্রাচীর তৈরি করেছিল তাদের ইতিহাস আজ ও আবিষ্কার হয়নি। চীনের প্রাচীর তৈরি করতে অজস্র শ্রমিকের মৃত্যু বরণ করতে হয়েছিল কিন্তু তা ইতিহাস হয়নি, ইতিহাস হয়ে রয়েছে শুধু রাজার নাম

     যুগযুগান্তর ধরে যারা মাটির সাথে মিশে সমাজ গড়ে তোলে, সভ্যতা গড়ে তোলে, রাজ্য গড়ে তোলে তাদের কথা ইতিহাস হয় না। অথচ যারা সেই মানুষগুলোর উপরে বসে তাদের অত্যাচার করে সাম্রাজ্যের শাসন কায়েম করে তাদের কথা ইতিহাসে বড় বড় করে লেখা থাকে। সেই কারণে কোন এক শিক্ষিত মজুর এই প্রশ্ন করে বসে যে, যেদিন চীনের প্রাচীর তৈরি শেষ হয়েছিল তারপর তারা কোথায় গেল। কারণ আজও তাদের কোন ইতিহাসে ঠাঁই মেলেনি। 



" বইয়ে লেখে রাজার নাম। / রাজারা কি পাথর ঘাড়ে করে আনত ?" - কারা, কেন তারা পাথর ঘাড়ে করে এনেছিল ? 


    পড়তে জানে এমন এক মজুরের প্রশ্ন কবিতাটি কবি বের্টোল্ট ব্রেখট প্রাচীন মিশরের নগররাষ্ট্র নির্মাণ কারীর নাম উল্লেখ করতে গিয়ে এই উক্তিটি করেছেন। পড়তে জানে এমন এক মজুরের প্রশ্ন - কারা   পাথর ঘাড়ে করে এনেছিল ? 

    যদি পৃথিবীর ইতিহাস কে পর্যালোচনা করা যায় তবে দেখা যাবে সেখানে খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষের ভূমিকা সবথেকে বেশি। কিন্তু শ্রমজীবী মানুষের নাম কোন ইতিহাসে লিপিবদ্ধ হয়নি যা হয়েছে তা রাজ রাজাদের আর তাদের সাম্রাজ্যর কাহিনী। এই কারণে কবির মনে হয়েছে হয়তো ইতিহাসকে শুধুমাত্র রাজা রাই নিয়ন্ত্রণ করে। 

     যে শ্রমিক শ্রেণীর মানুষেরা নিজের জীবনকে বলিদান দিয়ে বড় বড় সাম্রাজ্য গড়ে তোলে তাদের কোনো ইতিহাস নেই। তারা যেন ইতিহাসের বিশাল ইমারতের পিছনে উপেক্ষিত মাত্র। কিন্তু কবি বের্টোল্ট ব্রেখট কবিতার মাধ্যমে জানিয়েছেন তারাই ইতিহাস গড়ার কারিগর। প্রাচীন গ্রিসে যে থিবস নগরী গড়ে উঠেছিল তা শুধুমাত্র মজুর শ্রেণীর জন্য কিন্তু ইতিহাসের সাক্ষী দেয় শুধু সম্রাটের নামে।

    কবির এখানে বড় প্রশ্ন হল, তাহলে যে সাত দরজাওয়ালা থীবস নগরী গড়ে উঠেছিল তার জন্য যে বড় বড় পাথর তা কি রাজারা ঘাড়ে করে বই নিয়ে আসতো। কিন্তু যারা জীবন দিয়ে নগর গড়ে তুলেছিল তাদের ইতিহাস কোন বইয়ের পাতায় লেখা হয় না। এই আক্ষেপ থেকে কবিতায় কবি এই উক্তিটি করেছেন - বইয়ের শুধু রাজার নাম লেখা থাকে, যাদের জন্য রাজা তাদের নাম লেখা থাকে না। 



"ভারত জয় করেছিল তরুণ আলেকজান্ডার / একলাই নাকি ? " -  

      আলেকজান্ডার কে ছিলেন ? কবিতায় এই উক্তিটি ব্যবহার করার তাৎপর্য কি ? 


     গ্রীক সম্রাট দ্বিতীয় ফিলিপ এর পুত্র ছিলেন আলেকজান্ডার। 330 খ্রিস্টপূর্বাব্দে তিনি  পারস্যের দরায়ুস কে পরাজিত করেন। 326 খ্রিস্টপূর্বাব্দে সিন্ধু নদী অতিক্রম করে ভারতীয় রাজা অম্বিকে পরাজিত করেন, কিন্তু পুরুর সঙ্গে তার কঠিন লড়াই বাঁধে। এর ফলে বিতস্তা ও বিপাশা নদীর তীরবর্তী বিস্তীর্ণ অঞ্চল আলেকজান্ডার জয় করে নেয়।

      327 খ্রীষ্টপূর্বাব্দে আলেকজান্ডার ভারত বিজয়ের সূচনা করেন। 326 খ্রিস্টপূর্বাব্দে হিদাসপিসের যুদ্ধ  এ পূরুর সঙ্গে সন্ধি করতে বাধ্য হয়। রাজা আলেকজান্ডারের এই যে অসামান্য জয় সফল হয়েছিল তার একমাত্র সাহসী সৈনিক দের জন্য, কিন্তু সেই সৈনিকদের ইতিহাসে কোন উল্লেখ নেই। যে সৈনিকদের আত্মত্যাগ ছাড়া আলেকজান্ডার জয়লাভ করতে পারত না তারা ইতিহাসে স্থান পায়নি।
   
     আসলে যারা ইতিহাসের প্রকৃত নায়ক তাদেরকে নায়ক করার পিছনে থাকে প্রচুর শ্রমজীবী মানুষের পরিশ্রম। আসল কথা বলতে গেলে বলতে হয় এই শ্রমিক শ্রেণীর মানুষেরা রাজাকে নায়ক করে গড়ে তোলে। কিন্তু ইতিহাসের সেই প্রকৃত কারিগরদের কথা কেউ মনে রাখেনা, এমনকি তাদের ইতিহাসের কোন পাতাতে ঠায় মেলে না।


     যদি দেখি ইতিহাসের সেই সাত দরজাওয়ালা থিবস নগরীর কথা বা ঝকঝকে লিমা শহর এর কথা, এগুলি সব তৈরি করেছিল প্রচুর শ্রমজীবি মেহনতী কারিগরেরা। কিন্তু তাদের কথা কেউ আজ পর্যন্ত জানতে পারল না, ইতিহাস শুধু লিখল রাজার নাম। আলেকজান্ডারের ভারত আক্রমণ, এমনকি বাইজান্টিয়াম, আটলান্টিস সবকিছুই সফল হয়েছিল শ্রমিকশ্রেণীর কারণে। কিন্তু ইতিহাসের পাতায় সামান্য কোনো চিহ্ন কেনো নেই তাদের, এই ঘটনা বোঝাতে গিয়ে কবি বের্টোল্ট ব্রেখট আলোচ্য উক্তিটি করেছেন।