ক্রন্দনরতা জননীর পাশে কবিতার বড় প্রশ্ন ও উত্তর

     মৃদুল দাশগুপ্তের অন্যতম কবিতা "ক্রন্দনরতা জননীর পাশে" কবিতা থেকে যে সকল বড়ো প্রশ্ন গুলি দ্বাদশ শ্রেণীর পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সেই সকল বোরো প্রশ্ন গুলি সম্পর্কে এখানে আলোচনা করা হলো -

   কবিতাটির বড়ো প্রশ্ন নিয়ে উত্তর আলোচনার পূর্বে আমরা কবিতার প্রেক্ষাপট ও কবিতার বিষয় বস্তু নিয়ে আলোচনা করে নেব।।

"ক্রন্দনরতা জননীর পাশে"  কবিতার বড় প্রশ্ন ও উত্তর


"ক্রন্দনরতা জননীর পাশে" কবিতার প্রেক্ষাপট 


     আধুনিক যুগের অন্যতম কবি মৃদুল দাশগুপ্ত "ক্রন্দনরতা জননীর পাশে"  কবিতা খানি রচনা করেছিলেন ২০০৬ সালের সিঙ্গুর আন্দোলন কে কেন্দ্র করে। হুগলি জেলার সিঙ্গুর নামক স্থানে কৃশকদের প্রতি অত্যাচারের প্রতিবাদে তিনি এই কবিতা খানি রচনা করেছিলেন। 


"ক্রন্দনরতা জননীর পাশে"  কবিতার বিষয়বস্তু


     কবি মৃদুল দাশগুপ্ত জন্মভূমিকে মায়ের সাথে তুলনা করেছেন। "ক্রন্দনরতা জননীর পাশে" কবিতায় কবি যেনো তার এই মাত্রই ভূমির প্রতি দ্বায়বদ্ধ, সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে বার বার সাধারণ মানুষকে তার জীবন বিপন্ন করতে হয়। এই পরিণতিতে লেখক হিসাবে তিনি নিজেকে মাতৃ স্বরূপ জন্মভূমির পেজ দাড়াতে চেয়েছেন। 

    সিঙ্গুর আন্দোলনে অনেক সাধারণ কৃশক দের জীবন দিতে হয়েছিলো, যারা ছিল প্রকৃত অর্থে কবির তথা আমাদের ভাই। দেশের আর দেশবাসীর সংকটের দিনে যদি আমরা মায়ের পাশে না দাড়াই তবে আমরা মনুষত্ব হীন বলে বিবেচিত হব। শুধুমাত্র এই কারণে বিপন্ন মেয়ের মৃতদেহ জঙ্গলে পেয়ে শুধু বিধাতার বিচার চাওয়া আমাদের কাম্য নয়। আমাদের উচিত অত্যাচারের বিরুদ্ধে মুষ্ঠিবদ্ধ হয়ে সংগ্রাম করা। 



"আমি তা পারি না।" - কে কি পারেন না ? তার না পারার বেদনা কিভাবে কবিতাতে আলোড়িত করেছে তা কবিতা অবলম্বনে লেখ। 


     আধুনিক যুগের অন্যতম কবি মৃদুল দাশগুপ্ত তার ক্রন্দনরতা জননীর পাশে কবিতাতে নিজে না পারার কথা বলেছেন।


   সমাজের মানুষ হিসাবে কবি নিজেকে মানব ধর্মে দীক্ষিত করে তুলেছেন। বিভিন্ন বঞ্চনার প্রতিবাদের বিধান তিনি ভগবানের কাছে আবেদন করতে চান না। কারণ কোন নিখোঁজ মেয়ের ছিন্নভিন্ন শরীর জঙ্গলে দেখতে পেলে সামাজিক মানুষ হিসেবে তার মধ্যে ক্রোধের জন্ম ঘটে।

     দেশবাসীর কোন রকম বিপদের দিনে যদি ভাইয়ের মতো তার পাশে না থাকা যায় তবে মানুষের মানবতা বোধ থাকা আর না থাকা দুই সমান কথা। দেশবাসীর বিপন্ন অবস্থায় তিনি সদাসর্বদা ক্রন্দনরতা জননীর পাশে থাকতে চেয়েছেন। এই কারণে মৃত ভাইয়ের শবদেহ দেখে তার মধ্যে বিদ্রোহের প্রকাশ ঘটেছে। 

     মানুষের অন্তহীন শোষণের প্রতিবাদ স্বরুপ ঈশ্বরের দিকে চেয়ে থাকা কে কবি কখনো গ্রহণ করতে পারেননি। দেশ মাতার অপচয় দেখে যদি প্রতিবাদ না করা হয় তবে কোনো দায়িত্ববোধ মূল্যবোধ থাকে না। এই কারণে সমাজের প্রতি নারকীয় অত্যাচার কবির মনে বারুদ রূপে বিদ্রোহের জন্ম হয়েছে। 

    কবিরা যা পারেন তা তাদের কলমে প্রকাশিত হয়। যেমন বিদ্রোহী কবি লিখেছিলেন আমার রক্ত-লেখায় যেন হয় তাদের সর্বনাশ। ঠিক একই রকমভাবে মৃদুল দাশগুপ্ত তার বিবেক ও বিদ্রোহী সত্তাকে বারুদের মত কবিতায় প্রতিবাদ স্বরুপ তুলে ধরেছেন।



"নিহত ভাইয়ের শবদেহ দেখে / না ই যদি হয় ক্রোধ.." - নিহত ভাইয়ের শবদেহ দেখে কবির মনে কি প্রতিক্রিয়া হয়েছিল তা কবিতা অবলম্বনে আলোচনা করো। 


     ক্রন্দনরতা জননীর পাশে কবিতার কবি মৃদুল দাশগুপ্ত সিঙ্গুর আন্দোলনে নিহত কৃষক দের ভাই বলে সম্বোধন করেছেন। 

    কবির মনে হয়েছে তার এই শহীদ ভাইদের মৃত্যু দেখে দেশমাতা আজ বড় পীড়িত।  অমানুষিক নিপীড়ন আর হত্যা কান্ড দেখে কবির মনে হয়েছে আজ দেশমাতার পাশে দাঁড়ানোর সময় এসেছে।কবি আরো আক্ষেপ করেছেন যদি মায়ের দুর্দিনে তার পাশে না দাঁড়াতে পারি তবে নিজের লেখালেখি কোন প্রয়োজনে নয়। 

    এই কারণে কবিতার লেখালেখির মধ্যে বিদ্রোহী সত্তা ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছেন যা বিস্ফোরণের আগে বারুদের মত শক্তি সঞ্চয় করে রাখতে পারে। মৃদুল দাশগুপ্তের কাছে কবি হিসাবে এটাই যেন কবি ধর্ম। আর মৃত ভাইয়ের শবদেহ দেখে কবি এভাবেই তার বিবেক কে জাগ্রত করে তুলেছেন সমাজ ধর্মের কাজে। 

    সমাজের বিভিন্ন অত্যাচারকে তিনি অনুভব করে গভীরভাবে সমাজের সঙ্গে একাকার হয়েছেন। সমাজের প্রতি এবং দেশমাতার সন্তানদের প্রতি হওয়া অত্যাচারকে তিনি উপলব্ধি করে কবিতায় বিদ্রোহ প্রকাশ করেছেন। তিনি অত্যাচারের প্রতিকার স্বরূপ ঈশ্বরের দিকে দুহাত তুলে প্রার্থনা করাকে মেনে নেননি। 

    কবি মৃদুল দাশগুপ্ত সামাজিক অত্যাচারের বিরুদ্ধে দায় বদ্ধ হয়ে লেখনি ধারণ করেছেন। তিনি তার আবেগ বিবেক আর প্রতিবাদকে কলমের কালিতে কবিতায় তুলে ধরেছেন। মৃত ভাইয়ের শবদেহ দেখে তার মধ্যে ক্রন্দনরতা জননীর জন্য যে দুঃখ প্রকাশ পেয়েছে তাকে তিনি কলমের অক্ষরে কবিতায় বারুদের মত প্রকাশ করেছেন।