হিন্দু প্যাট্রিয়ট পত্রিকা বাংলার সমাজ ব্যবস্থার কোন কোন দিক প্রতিফলিত হয়েছে তা ব্যাখ্যা করো।

     বাংলার আধুনিক ইতিহাসে হিন্দু প্যাট্রিয়ট পত্রিকা টি একটি উল্লেখযোগ্য পত্রিকা। এই পত্রিকা থেকে আমরা সমকালীন সমাজ চিত্রে ও  অনেক ইতিহাস জানতে পারি। মাধ্যমিক ইতিহাস পরীক্ষার জন্য এই প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তাই নিয়ে এই সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো।।

হিন্দু পেট্রিয়ট পত্রিকা



হিন্দু প্যাট্রিয়ট পত্রিকা


    যে সমস্ত সংবাদপত্র ১৯ শতকের বাংলাদেশের সমাজ চিত্র তুলে ধরেছিল তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি পত্রিকা হল হিন্দু প্যাট্রিয়ট পত্রিকা। এই পত্রিকা থেকে সামাজিক শোষণ, সমাজের বিভিন্ন সংস্কার, বিভিন্ন বিদ্রোহ, তৎকালীন নীলকর সাহেবদের অত্যাচারের সম্পর্কে বিস্তারিত বিবরণ পাওয়া যায়। ১৯৫৩ সালের 6 জানুয়ারি মধুসূদন রায় হিন্দু প্যাট্রিয়ট পত্রিকার প্রথম প্রকাশ করেন। প্রথমে এটি সাপ্তাহিক থাকলেও পরে দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত হতে থাকে।



হিন্দু প্যাট্রিয়ট পত্রিকার প্রতিফলিত বাংলার সমাজ জীবন 


    আমরা হিন্দু পেট্রিয়ট পত্রিকা থেকে ১৯ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে যে সমস্ত সামাজিক পরিবর্তন লক্ষ্য করি সে গুলি সম্পর্কে আলোচনা করা হলো - 


সামাজিক অবস্থা ::   ১৯ শতকে খাদ্যশস্যের বদলে অর্থকরী ফসল চাষ শুরু হয় ও তা বিদেশে রপ্তানী করার কারণে কৃষিপণ্য খাদ্যশস্যের দাম বৃদ্ধি পেতে থাকে। এর ফলে সামাজিক অবস্থা ধীরে ধীরে শোচনীয় হয়ে ওঠে।


কৃষিকাজ ::   গ্রামের দিকে বিভিন্ন জমিদারদের উপস্থিতি থাকলেও কৃষকরা আউশ ও আমন চাষের মাধ্যমে সারা বছরের খাদ্য শস্য জোগাড় করত। তবে নীল চাষ এর ব্যাপক প্রসার ঘটবে কৃষকেরা তাদের আউশ জমিতে নীল চাষ করতে বাধ্য হয়।


অর্থনীতি ::   বাংলাদেশের বেশিরভাগ মানুষ ছিল কৃষিজীবী। চিরস্থায়ী ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থা, রাজস্বের হার বৃদ্ধি, সর্বোপরি জমিদারদের কঠোর অত্যাচার এই সকল সামাজিক নিপীড়নের কথা এই পত্রিকায় প্রকাশিত হতো।


বিদ্রোহ ::   হিন্দু প্যাট্রিয়ট পত্রিকার মতে আদিবাসী সমাজে জোর করে সাঁওতালদের বেকার খাটানো হত। এর ফলে তারা সাঁওতাল পরগনায় বিদ্রোহী হয়ে ওঠে। এছাড়াও বিভিন্ন আঞ্চলিক বিদ্রোহ সম্পর্কে আলোচনা ও মতামত এই পত্রিকায় প্রকাশিত হতো।


সরকার বিরোধিতা ::   হিন্দু প্যাট্রিয়ট পত্রিকার মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে সরকারের বিরোধিতা সম্পর্কে আমরা জানতে পারি। বড়লাট লর্ড লিটন দেশীয় ভাষায় সংবাদপত্র আইন চালু করলে এই পত্রিকাতে তার বিভিন্ন প্রতিবাদ ও সরকারি নীতির সমালোচনা এমনকি বিরোধিতা প্রকাশিত হতে থাকে।


বেকারত্ব বৃদ্ধি ::   এই পত্রিকায় প্রকাশিত হতো বাংলার সমাজে বেকারদের দুর্দশার ছবিও। হিন্দু পেট্রিয়ট পত্রিকা তে বলা হয় যে শিক্ষিত ব্যক্তির সংখ্যা বৃদ্ধির ফলে বেকারত্ব বৃদ্ধি পায়। এবং এই বেকারত্ব বৃদ্ধির ফলে শিক্ষিত সমাজের কাছে কৃষির বাণিজ্য হয়ে ওঠে একমাত্র লক্ষ্য।


নীল চাষ ::   তৎকালীন সমাজে নীলচাষ ছিল সবথেকে ঘৃণ্য ও কঠোরতম পদ্ধতি। সমাজের বিভিন্ন অংশে এই নীল চাষ নিয়ে অসম্মতি প্রকাশিত হলে এই পত্রিকা তার আদ্যোপান্ত বিবরণ প্রকাশ করতে থাকে। এমনকি হিন্দু প্যাট্রিয়ট পত্রিকার এই সকল সমালোচনার ফলে ধীরে ধীরে নীল বিদ্রোহ ও নীল চাষের অত্যাচার বাংলার বুক থেকে কমে যেতে থাকে। 


জাতীয়তাবাদের সমর্থন ::   বড়লাট লর্ড রিপন বিচার ব্যাবস্থায় বৈষম্য দূর করার জন্য ইলবার্ট বিল তৈরি করেন। ইংরেজরা এর বিরোধিতা করলে হিন্দু প্যাট্রিয়ট পত্রিকার মাধ্যমে জাতীয়তাবাদী দেশবাসীরা সেই নতুন বিচারব্যবস্থাকে সমর্থন জানিয়েছিল।


মূল্যায়ন ::   অনেক বিচ্যুতি থাকা সত্ত্বেও ইংরেজি ভাষায় প্রকাশিত এই পত্রিকাটি আদর্শ ভাবে জাতীয়তাবাদের প্রচারে সর্বাপেক্ষা অগ্রণী ভূমিকা গ্রহণ করেছিল। বিভিন্ন বিদ্রোহ ও তার সমাজের উপর প্রভাব এবং সমাজের মধ্যে দেশাত্মবোধ কে জাগিয়ে তুলতে এই পত্রিকাটি উল্লেখযোগ্য হয়ে আছে।।


আরো প্রশ্ন :