উদারনীতিবাদ বলতে কী বোঝো ? উদারনীতিবাদের বৈশিষ্ট্য গুলি আলোচনা করো | Liberalism

    দ্বাদশ শ্রেণীর রাষ্ট্রবিজ্ঞান থেকে যে সকল প্রশ্ন গুলি পরীক্ষাতে আসার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সেই সকল প্রশ্ন গুলির উত্তর এখানে যথা যথ ভাবে আলোচনা করা হলো। এখানে আমরা পর পর উত্তর গুলিকে আলোচনা করার চেষ্টা করেছি। এখানে উদারনীতিবাদ ( Liberalism ) বলতে কী বোঝো ? উদারনীতিবাদের বৈশিষ্ট্য গুলি আলোচনা করো, এই প্রশ্নটির উত্তর সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।


উদারনীতিবাদ বলতে কী বোঝো ?

 রাজনৈতিক চিন্তার ইতিহাসে উদারনীতিবাদ (Liberalism) হলো অন্যতম একটি রাজনৈতিক মতাদর্শ। সপ্তদশ শতাব্দীর প্রথম অর্ধে এর উদ্ভব হলেও নানা পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে এটি বর্তমান রূপ লাভ করেছে। রাজনৈতিক স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া হিসেবে উদারনীতিবাদের জন্ম হয়। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের আলোচনায় উদারনীতিবাদ এর অর্থ হল রাষ্ট্রীয় কতৃত্ববাদ এর বিরোধিতা করা এবং ব্যক্তির অবাধ স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা করা। স্বাধীনতাই হলো উদারনীতিবাদের মূল প্রতিপাদ্য বিষয়।

      উদারনীতিবাদের তিনটি রূপ আছে। এগুলি হল — (১) সনাতন উদারনীতিবাদ, (২) নয়া উদারনীতিবাদ, (৩) সংশোধনমূলক উদারনীতিবাদ। J.S Mill, বেন্থাম, গ্রিন, লেসকি, রবার্ট ডাল প্রমুখরা হলেন উদারনীতিবাদের মুখ্য প্রবক্তা।


উদারনীতিবাদের বৈশিষ্ট্য গুলি আলোচনা করো।

        উদারনীতিবাদের যে সমস্ত বৈশিষ্ট্যগুলি আছে সেগুলি হল যথা —


স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠিত :-   উদারনীতিবাদে ব্যক্তির স্বাধীন চিন্তা, স্বাধীনভাবে মতামত প্রকাশ এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা প্রভৃতি ব্যক্তিগত স্বাধীনতা গুলিকে অপরিহার্য বলে স্বীকার করা হয়েছে। সেইসাথে ব্যক্তির অর্থনৈতিক ও সামাজিক স্বাধীনতার কথাও স্বীকার করা হয়েছে।


রাজনৈতিক সাম্য প্রতিষ্ঠা :-   উদারনীতিবাদের রাজনৈতিক সাম্য প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। এখানে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে। সেইসাথে জনগণের সম্মতি ও শোষিতে সম্মতির ওপর সরকার গঠনের প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে।


পৌর ও রাজনৈতিক অধিকারের স্বীকৃতি :-   উদারনীতিবাদের নাগরিকের পৌর ও রাজনৈতিক অধিকার গুলিকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। জীবনের অধিকার, চিন্তা ও মতপ্রকাশের অধিকার, ধর্মের ও পরিবার গঠনের অধিকার প্রভৃতি হলো পৌর অধিকার। আর নির্বাচিত হওয়া ও নির্বাচন করার অধিকার হলো রাজনৈতিক অধিকার।


সাংবিধানিক পদ্ধতিতে সরকারের পরিবর্তন :-   উদারনীতিবাদে শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের দ্বারা সরকারের পরিবর্তন শিক্ষিত হয়েছে। এর জন্য অবশ্য বিপ্লব ও হিংসার কথা স্বীকার করা হয়নি।

উদারনীতিবাদ বলতে কী বোঝো
উদারনীতিবাদ 

স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচার ব্যবস্থা :-   স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচার ব্যবস্থা নাগরিকের মৌলিক অধিকার গুলিকে সংরক্ষন করে থাকে। এছাড়াও বিচারব্যবস্থা এখানে সংবিধানের ব্যাখ্যা কর্তা ও অভিভাবক রূপে কাজ করে থাকে।


প্রাপ্তবয়স্কের ভোটাধিকার স্বীকৃতি :-   উদারনীতিবাদের জাতি,ধর্ম,বর্ণ, দরিদ্র, স্ত্রী-পুরুষ, শিক্ষিত-অশিক্ষিত, শ্বেতকায়-কৃষ্ণকায় নির্বিশেষে সমস্ত সুস্থ প্রাপ্ত বয়স্ক নাগরিকের ভোটাধিকার প্রদান এর নীতি কে স্বীকার করে নেওয়া হয়েছে।


ব্যক্তিগত সম্পত্তির স্বীকৃতি :-   উদারনীতিবাদের ব্যক্তিগত সম্পত্তির অধিকারকে স্বীকার করা হয়েছে। বলা হয়েছে যে জনগণের সম্পত্তির অধিকার না থাকলে তাদের কাজকর্মে উৎসাহ আসবে না এবং এর ফলে দেশের উন্নতি বাধাপ্রাপ্ত হয়।


পারিবারিক স্বাধীনতা :-   পরিবারের মধ্যে যে কোন নারী যে কোন পুরুষের মতো পূর্ণাঙ্গ ব্যক্তিত্ব প্রকাশের অধিকার যুক্ত। পরিবারের পুরুষের মত নারীরও সম্পত্তির অধিকার, বিভিন্ন চুক্তির অধিকার, ব্যবসা পরিচালনার অধিকার, প্রভৃতি অধিকার থাকবে। তাই পরিবারের মধ্যে স্বামী ও স্ত্রী সমান মর্যাদা সম্পন্ন।


মন্তব্য :-   সুতরাং আমরা বলতে পারি যে উদারনীতিবাদের অর্থনৈতিক সাম্য উপেক্ষিত হয়েছে এবং একচেটিয়া পুঁজিবাদকে সমর্থন করা হয়েছে। এর ফলে প্রাপ্তবয়স্কের ভোটাধিকার ও রাজনৈতিক সাম্য অর্থহীন হয়ে পড়েছে। এমনকি বিচার বিভাগের নিরপেক্ষতাও বাস্তবে ক্ষুন্ন হয়েছে। অর্থনৈতিক সাম্য প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় অন্যান্য স্বাধীনতা কার্যত ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে। তবে  মানবতাবাদী ধ্যান-ধারণার প্রসার, ব্যক্তিস্বাধীনতার বিকাশ ও ধর্মীয় সংকীর্ণতাকে মুক্ত রাখা প্রভৃতি ক্ষেত্রে উদারনীতিবাদ এর গুরুত্ব অপরিসীম।


Political Science Question & Answere