আইন অমান্য আন্দোলনের বৈশিষ্ট্য ও তাৎপর্য আলোচনা করো

 দ্বাদশ শ্রেণীর ইতিহাস বিষয় থেকে যেসকল প্রশ্নগুলি উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ এখানে সেই সকল প্রশ্ন নিয়ে নোট আকারে আলোচনা করা হয়েছে। দ্বাদশ শ্রেণীর অন্যান্য বিষয়ের সকল নোট এখানে আলোচনা করা হয়।

আইন অমান্য আন্দোলনের বৈশিষ্ট্য ও তাৎপর্য
আইন অমান্য আন্দোলন


   ইতিহাস বিষয় থেকে পরপর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন আলোচনা করা হলো যেখানে এই পোস্টটি তে আইন অমান্য আন্দোলনের বৈশিষ্ট্য ও তাৎপর্য আলোচনা করো, প্রশ্নের বিষয়টিকে এখানে গুরুত্ব সহকারে আলোচনা করা হলো।


আইন অমান্য আন্দোলনের বৈশিষ্ট্য ও তাৎপর্য আলোচনা করো।

ভূমিকা :- ভারতবর্ষের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে মহাত্মা গান্ধীর প্রচেষ্টায় অহিংস অসহযোগ আন্দোলনের মতন 1930-34 খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত যে অহিংস গণ আন্দোলন সংগঠিত হয় তা প্রাক স্বাধীনতার ইতিহাসের পাতায় আইন অমান্য আন্দোলনে নামে পরিচিত। তাই ভারতবাসী রাজনৈতিক জীবনে বিভিন্ন ঘাত-প্রতিঘাত ও মতাদর্শগত বিরোধকে দূর করে স্বাধীনতা লাভের পথকে প্রসারিত করেছিল এই আইন অমান্য আন্দোলনের পটভূমি।

আইন অমান্য আন্দোলনের কারণ/বৈশিষ্ট্য :-

  আইন অমান্য আন্দোলনের পশ্চাতে যে সমস্ত কারণ বা বৈশিষ্ট্য গুলি আছে সেগুলি হল যথা —

অসহযোগ আন্দোলনের ব্যর্থতা :-  ভারতবাসী বহু আশা-আকাঙ্ক্ষা নিয়ে এই আন্দোলনে যোগ দিয়েছিল। কিন্তু কোন ফলাফল আসার আগে গান্ধীজি অসহযোগ আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেওয়ায় জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা নিরসনের মধ্যে দিয়ে আন্দোলনটি ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। ফলে ভারতীয়রা পুনরায় এরকম একটি গণআন্দোলন চেয়েছিল।

কৃষক শ্রেণীর দুরবস্থা :-  বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দার ফলে ভারতীয় কৃষক,শ্রমিক ও মধ্যবিত্তের মধ্যে প্রবল অসন্তোষ দেখা দেয়। যার ফলে কাঁচা তুলা,পাঠ,ধান প্রভৃতি পণ্যের মূল্য হ্রাস পেলে বাংলা,বিহার ও উত্তরপ্রদেশের কৃষকের অবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন ধর্মঘটে সামিল হয়।

সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা :-  অসহযোগ আন্দোলন ব্যর্থতার ফলে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে হিন্দু-মুসলমানরা একে অপরকে ঘৃণা করতে শুরু করে। যার পরিণতি হিসেবে সাম্প্রদায়িক হানাহানি শুরু হয়।

শ্রমিক অসন্তোষ :-  বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দার ফলে শ্রমিকদের বেতন হ্রাস, ছাঁটাই, লকআউট ইত্যাদি কারণে শ্রমিকদের মনে অসন্তোষ দেখা দেয়। তাই তারা এই ক্ষোভকে তুলে ধরতে চেয়েছিলেন এইরকম বৃহত্তর আন্দোলনের মাধ্যমে।

আইন অমান্য আন্দোলনের সাফল্য /গুরুত্ব বা তাৎপর্য :-

  অনেক ত্যাগ ও তিতিক্ষার পর আইন অমান্য আন্দোলনের যে সমস্ত ফলাফল লক্ষ্য করা যায়,সেগুলি হল —

 ১) আইন অমান্য আন্দোলনের ফলে ধনী-দরিদ্র, নারী-পুরুষ, জাতি,ধর্ম,বর্ণ,শ্রমিক-কৃষক, মধ্যবিত্ত ও পুঁজিপতি সকলে এই আন্দোলনে যোগদান করে।
 ২) ভারতের নারী সমাজ বিপুল সংখ্যায় এই আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে প্রমাণ করেছিলেন যে ইংরেজ শাসন তাদের কাম্য নয়।
 ৩) এই আন্দোলনের ফলে জাতীয় কংগ্রেসের মর্যাদা বৃদ্ধি পায় এবং সরকার উপলব্ধি করেন কংগ্রেস কে বাদ দিয়ে ভারতীয় সমস্যার সমাধান করা কখনও সম্ভব নয়।
 ৪) এই আন্দোলনের অভিজ্ঞতা 1942 খ্রিস্টাব্দের ভারত ছাড়ো আন্দোলন কে সফল করে স্বাধীনতার পথ সুপ্রশস্ত করে।

উপসংহার :- পরিশেষে বলা যায় যে অনেক ত্যাগ,তিতিক্ষা ও রক্তাক্ত সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে আইন অমান্য আন্দোলন ইপ্সিত সাফল্যের মুখ দেখতে পেরে ছিল। যা স্বাধীনতা লাভের গণচেতনা ও গণ মুক্তির স্পৃহা স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে চির উজ্জ্বল আছে। এখানেই নিহিত রয়েছে আইন অমান্য আন্দোলনের ঐতিহাসিক তাৎপর্য।

দ্বাদশ শ্রেণীর ইতিহাস বিষয়ের অন্য সকল প্রশ্ন ও উত্তর :