রাজসিংহ উপন্যাসের চঞ্চল কুমারী মানিকলাল ও নির্মলকুমারী চরিত্র গুলির গুরুত্ব আলোচনা করো।

বাংলা সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র এর বিখ্যাত উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক উপন্যাস রাজসিংহ। রাজসিংহ উপন্যাসে যে সকল চরিত্র গুলি মুখ্য ভূমিকা গ্রহণ করেছে তারা হল রাজসিংহ জেবুন্নিসা। উপন্যাসের অন্যতম বৈশিষ্ট্য মূল কাহিনীর পাশাপাশি অনেকগুলি উপকাহিনী সংযুক্ত হয় ও এই কাহিনী গুলির হাত ধরে উঠে আসে অনেকগুলি পার্শ্বচরিত্র। রাজ সিংহ উপন্যাস যে সকল অপ্রধান / গৌণ চরিত্রগুলি উল্লেখযোগ্য তারা হল চঞ্চল কুমারী, মানিকলাল, নির্মলকুমারী। যদিও এছাড়া দরিয়া, মোবারক ইত্যাদি চরিত্রগুলি আছে তবু এখানে এই তিনটি চরিত্র সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।

উপন্যাসের অপ্রধান চরিত্র

   যে কোন উপন্যাসের বৃত্ত গড়ে ওঠে কতগুলি প্রধান চরিত্র ও কতগুলি ও প্রধান চরিত্রের মিলনে। উপন্যাসের কাহিনী বৃত্তে যে সমস্ত চরিত্রগুলি প্রাধান্য পায় সেগুলি সাধারণত প্রধান চরিত্র নাম লাভ করে, আর যে চরিত্র গুলি কাহিনী বৃত্তে প্রাধান্য অর্জন না করতে পারলেও কাহিনীর বৃত্তকে নিয়ন্ত্রণ করে সেগুলিকে আমরা অপ্রধান চরিত্র বা গৌণ চরিত্র বলে থাকি।
চঞ্চল কুমারী মানিকলাল ও নির্মলকুমারী
চঞ্চলকুমারী-মানিকলাল-নির্মলকুমারী


   একথা ঠিক যে এই সকল গৌণ চরিত্রগুলি অনেক সময় উপন্যাসের মূল প্রয়োজনকে চরিতার্থ করে তোলে। রাজসিংহ উপন্যাস যে সমস্ত গৌণ চরিত্র গুলি আছে সেগুলি হল - চঞ্চল কুমারী, নির্মলকুমারী, উজিরপুরী বেগম, মানিক লাল, দরিয়া বিবি প্রভৃতি। আমাদের আলোচ্য রাজসিংহ উপন্যাসের চঞ্চল কুমারী, মানিকলাল ও নির্মলকুমারী চরিত্রগুলি নিচে পরপর আলোচনা করা হলো - 

মানিকলাল 

   মানিকলাল চরিত্রটি বঙ্কিমচন্দ্রের রাজসিংহ উপন্যাসের অন্যতম প্রধান চরিত্র। যদিও এই চরিত্রটি ইতিহাসের কোন প্রেক্ষাপট থেকে উঠে আসেনি অর্থাৎ ঐতিহাসিক কোন চরিত্র নয়। উপন্যাস অনুসারে সে তার জননীহীন কন্যার জন্য রূপান্তরিত হয়েছে ওটা দিয়েই সে জীবিকা নির্বাহ করে। চঞ্চল কুমারী পাঠানো উপহার পত্র অনন্তমূলের কাছ থেকে লুট করতে গিয়ে সে রানার আসিন এর কাছে ধরা পড়ে ।

    রাজসিংহ তাকে শাস্তি গ্রহণ করতে বললে নিজের আঙ্গুল নিজেই কেটে শাস্তি নেয়। তার এইরূপ পরাকাষ্ঠা দেখে রানার তাকে ক্ষমা প্রার্থনা করে ও তার অশ্বারোহী সৈন্যদল এ যুক্ত করে নেয়। মানিকলাল চতুর অপহরণে দক্ষ ও বিশ্বস্ত স্বভাবের একটি চরিত্র এই ভাবেই তাকে দেখানো হয়েছে এই উপন্যাসে। মানিকলাল রানার বিশ্বস্ত সেনাপতি তে পরিণত হয়েছে। ইতিহাস অংশে রানার সহযোগী হয়ে ওঠে উপন্যাসটির ক্ষেত্রে যথেষ্ট ভূমিকা পালন করেছে। 

চঞ্চল কুমারী

    উপন্যাসে একটা দ্বন্দ্বের প্রয়োজন হয় আর সেই দ্বন্দ্বের সূত্রপাত যে চরিত্রের হাত ধরে উঠে এসেছিল রাজসিংহ উপন্যাস সেই চরিত্রটি হলো চঞ্চল কুমারী। রূপনগরের রাজা বিক্রম সোলাঙ্কির কন্যা চঞ্চল কুমারী। তার স্বভাবত চপলতার কারণে সম্রাট ঔরঙ্গজেবের ছবি পদাঘাতে ভাঙ্গেন। এই খবর শুনে সম্রাট ক্রুদ্ধ হয়ে তাকে দিল্লিতে আনতে সেনাদল পাঠান।

   চঞ্চল কুমারী মেবারের রানা কে চিঠি পাঠান তাকে উদ্ধার করতে। রানা রাজসিংহ তাকে উদ্ধার করতে গেলে ওরঙ্গজেব এর সঙ্গে রাজসিংহ যুদ্ধ হয় এবং এই যুদ্ধে জয়লাভ করেন। অর্থাৎ চঞ্চল কুমারী চরিত্রটি রাজসিংহ উপন্যাসের মূল ঘটাতে সাহায্য করেছে ও খানিকটা উপন্যাসের ঐতিহাসিকতা রক্ষা করেছে।

নির্মলকুমারী

     নির্মলকুমারী রূপনগরের রাজকন্যা চঞ্চলকুমারীর প্রিয় সখি। চরিত্রটির মধ্যে একটি বিশ্বস্ত স্বভাব লক্ষ্য করা যায়। নির্মলকুমারী চঞ্চল কুমারীর প্রতি বিশ্বস্ত। নির্মলকুমারী, চঞ্চলকুমারীর মঙ্গল আকাঙ্ক্ষা করিনি তাই ঔরঙ্গজেব চঞ্চলকুমারীর কে ধরে নিয়ে যাওয়ার জন্য সেনা পাঠালে সে ও চঞ্চলকুমারী সাথে যেতে চেয়েছে। উপন্যাসের ঘনঘটায় পথের মধ্যে মানিকলাল সাথে দেখা হয় মানিকলাল সাথে তার বিবাহ হয়েছে। 

    নির্মলকুমারী বুদ্ধিমতী মানিকের সর্বকাজের সহযোগী, সে চঞ্চল কুমারী পত্র ওদের কাছে পৌঁছে দিতে বের হবার মুখে ওরঙ্গজেব এর কাছে ধরা পড়েছে। ওরঙ্গজেব তার সাহসিকতায় মুগ্ধ হয় তার বুদ্ধিদীপ্ত কথাবার্তায় খুশি হয়ে তার নাম দেন ইমলি বেগমনির্মলকুমারী উপন্যাসটির গতি সঞ্চার করেছে তার পরিপূর্ণতাই এই কারণেও এই চরিত্রটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 

এখানে রাজসিংহ উপন্যাসের অন্যতম তিনটি অপ্রধান চরিত্র সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে এছাড়াও বাংলা সাহিত্যের প্রশ্নগুলোর উত্তর পেতে নিচের দেওয়া লিঙ্কগুলি ফলো করতে পারেন - 

এছাড়া বাংলা সাহিত্যের রূপ রীতি অনন্য প্রশ্নগুলি -\